Showing posts with label সিটি করপোরেশন. Show all posts
Showing posts with label সিটি করপোরেশন. Show all posts

Tuesday, April 1, 2014

কীভাবে করাবেন নাগরিকত্বের সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র

বিভিন্ন প্রয়োজনের আমাদের লাগতে পারে নাগরিকত্বের সনদপত্র। সিটি করপোরেশন এলাকায় নাগরিকত্বের সনদপত্র দিয়ে থাকেন ওয়ার্ড কমিশনার। অনেক কাজে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে নাগরিকত্বের সনদপত্রও প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ সনদ লাগতে পারে। কেননা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকে না। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বর্তমানে নির্বাচিত মেয়র ও ওয়ার্ড কমিশনাররা না থাকায় এ সনদ বর্তমানে ওয়ার্ড সচিবের সুপারিশক্রমে প্রদান করেন সিটি করপোরেশনের সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা। এ সনদ কীভাবে করাবেন তা নিয়ে আজকের আলোচনা।

এক কপি পাসপোর্টের সাইজের ছবি, নিজেদের বাসা হলে হোল্ডিং ট্যাক্সের ফটোকপি, ভাড়া বাসা হলে ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি, জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে তার ফটোকপি নিয়ে চলে যান স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ের। সেখানে গিয়ে নাগরিকত্বের সনদের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র পূরণ করে সঙ্গে নেয়া অন্যান্য নথি ও ছবির সাথে জমা দিন। সিটি করপোরেশনে যাতায়াতের জন্য কিছু টাকাপয়সা দিতে হবে তাদের হাতে। সাধারণত দুই কর্মদিবসের মধ্যে তারা নগরভবন থেকে স্বাক্ষর করিয়ে এনে আপনার হাতে তুলে দেবে নাগরিকত্বের সনদ। সনদ গ্রহণের সময়  আরো কিছু টাকা চাইবে তারা। পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ২০০ টাকা খরচ হতে পারে। কোনো সরকারি ফি নেই এ কাজের জন্য।

ec-logo-new-SM20131029081854

এবার আসি জাতীয় পরিচয়পত্র প্রসঙ্গে। বয়স ১৮ বছর বা তার উর্ধ্বে হলেই কেবলমাত্র আপনি জাতীয় পরিচয়পত্র করাতে পারবেন। মূলত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটার আইডি ও ন্যাশনাল আইডি করার হিড়িক পড়ে। তখন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্যাম্প করে করে এ সেবাগুলো প্রদান করে থাকেন। কিন্তু আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যাদের বয়স বেশ আগেই ১৮ বছর হয়ে গেলেও বিবিধ কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র করান নি এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন নি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশন বলে থাকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা। অর্থাৎ, নির্বাচনের আগে আগে দেশের বাইরে থাকায় অনেকে জাতীয় পরিচয়পত্র করাতে পারেন নি। অনেকে আবার দেশে থেকেও কাজটি করাতে পারেন নি। যেমন- আমি। বাসায় ভোটার নিবন্ধন কর্মী আসে নি। আমিও গাফিলতি করে স্থানীয় বিদ্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন ফরম পূরণ করি নি। এখন এ অবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র করতে হলে প্রথমেই জেলা নির্বাচন অফিসে যেতে হবে। ঢাকা মহানগরীর স্থানীয় নির্বাচন অফিস হলো ৬৭, পশ্চিম আগারগাঁওয়ে। আবারো বলছি, এ কাজের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে যেতে হবে না, যেতে হবে জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে। ওখানে গেলে ওরা প্রথমেই জানতে চাইবে কেন আপনি নির্বাচনের আগে ভোটার হন নি। তখন আপনি কারণ জানাবেন যে দেশের বাইরে ছিলেন বা বাসায় ভোটার নিবন্ধন কর্মী আসেন নি এরকম। অতঃপর তারা আপনাকে ফরম-২ দিবে। আরেকটি ফরম (ফরম-১১) নিতে হবে সামনের ফটোকপির দোকান থেকে ৪-৫ টাকা দিয়ে। পূরণকৃত ফরমের সাথে কি কি কাগজের ফটোকপি লাগবে তাও তারা একটি কাগজে লিখে দেবে। সুবিধার্থে আমি বলে দিই এখানে।

১। পাসপোর্টের ফটোকপি

২। জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি

৩। সিটি করপোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্বের সনদপত্রের ফটোকপি

৪। হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদের (নিজেদের বাসা হলে) ফটোকপি
৫। বিদ্যুৎ/পানি/গ্যাস বিলের ফটোকপি

৬। এসএসসি সনদের ফটোকপি

৭। সনাক্তকারীর (মা/বাব/স্বামী/স্ত্রী) জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি

প্রতিটি কপি অবশ্যই প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাকে দিয়ে সত্যায়িত করাতে হবে।

এসব কাগজপত্র প্রথমবার যাওয়ার সময়েই নিয়ে যেতে পারেন। তাহলে অফিসে বসেই ফরমগুলো পূরণ করে জমা দিয়ে আসতে পারবেন। তবে কাগজগুলো তারা ঐদিন জমা নাও নিতে পারে। ৭ দিন পরে ছবি তোলার একটি তারিখ দেবে। ঐ দিন এসব কাগজ নিয়ে আপনাকে হাজির হতে হবে অফিসে। তারা কাগজপত্র জমা নিয়ে আপনার ছবি তুলে একটি ডেলিভারি স্লিপ ধরিয়ে দেবে আপনাকে। এর এক মাস পরে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয় অর্থাৎ আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের ৭ম তলায় গিয়ে স্লিপ দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। উল্লেখ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র করাতে কোনো টাকা-পয়সা দিতে হয় না। জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সারা বছর কার্যকর থাকে না। বিভিন্ন কাজে তারা অফিস বন্ধ করে অন্যান্য জেলা-উপজেলায় চলে যায়। তাই সেখানে গিয়ে কয়েকবার খোঁজ-খবর নিতে হতে পারে।

সকল ফরম ডাউনলোডের লিংক

ছবি:বাংলানিউজ২৪

Monday, March 17, 2014

কীভাবে ওঠাবেন জন্ম নিবন্ধন সনদ

দেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন কাজে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে আজকাল জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা জন্মনিবন্ধন সনদ লাগছে। আমাদের কারো কারো হয়তো শুধু পাসপোর্ট বা শুধু জন্ম নিবন্ধন সনদ বা শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। আবার কারো এ তিনটি মহামূল্যবান বস্তুই রয়েছে। অনেক কাজ করতে গেলে এ তিনটি কাগজই প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় জাতীয় পরিচয়পত্র করতে বা বিদেশে ভিসার জন্য লাগতে পারে জন্ম নিবন্ধন সনদ। জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ সারা বছর হয় না। কিন্তু হঠাৎ করে পাসপোর্ট করতে হলে জন্ম নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। আজকে আলোচনা করবো কীভাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয় থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হয়।

bnnessa_1286936375_1-DSC09187

প্রথমে নিজ এলাকার ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়টি খুঁজে বের করতে হবে। এরপর সেখানে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন ফরম বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যাবে। অনলাইনেও এ ফরম পাওয়া যায়। অনলাইনে ফরম পূরণ করে জমা দেয়ার ব্যবস্থাও আছে কিন্তু আমি নিজে সে চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলাম। সম্ভবত ওদের সার্ভারে কোনো সমস্যা ছিল। সে কারণে ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে ফরম নিয়ে তা পূরণ করতে হবে। জিজ্ঞেস করতে পারেন যে জমা দেয়ার সময় কী কী কাগজের ফটোকপি সাথে দিতে হবে। তাও বলে রাখি, প্রাপ্তবয়স্ক বা যার পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের সনদ রয়েছে তাকে এসব কাগজের যেকোনো একটি বা দু’টির ফটোকপি জমা দিতে হবে। যারা একদম বাচ্চা বা নবজাতক তাদের জন্য জমা দিতে হবে তার মা এবং বাবা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি। ফটোকপি সত্যায়িত না করলেও কাজ হয় কিন্তু করে রাখাই ভালো।

ইচ্ছে করলে কমিশনার অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করে কেউ সরাসরি সিটি করপোরেশনে গিয়েও কাজ করাতে পারেন। কিন্তু সেটি অসম্ভব পরিশ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। একটা পুরো দিন সেখানে চলে যেতে পারে। তাই ওয়ার্ড কমিশনার কার্যালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের কিছু টাকাপয়সা দিয়ে এ কাজটি করানো সুবিধাজনক। টাকাপয়সার প্রসঙ্গে বলি। দুই বছর বয়সের নিচের শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করতে সরকারিভাবে কোনো টাকা লাগে না। আর দুই বছরের ওপরে যেকোনো বয়সী ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়সের প্রতি বছরের জন্য ১০ টাকা করে দিতে হয়। তবে কমিশনার অফিসের লোকদের দিয়ে কাজ করাতে তাদের চা-নাশতা-যাতায়াতের জন্য কিছু খরচ দিতে হয়। সেটা আবার এলাকার ওপর ভিত্তি করে। অভিজাত এলাকায় একটু বেশি টাকা দাবি করা হয়। যেদিন ফরম জমা দেবেন সেদিন তাদেরকে ন্যায্য টাকা অর্থাৎ বয়সের প্রতি বছরের জন্য যত টাকা আসে তত টাকা দিয়ে দিতে হবে আর সাথে হয়তো আরো ১০০-২০০ টাকা দিতে হতে পারে যাতায়াতের জন্য। তবে তারা আরো টাকা দাবি করতে থাকে নানান কারণ দেখিয়ে। তাদের ভাষ্য হলো সিটি করপোরেশনে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য কম্পিউটারে ইংরেজিতে টাইপ যে করে সে ১০০ টাকা নেয়। আবার যে চিকিৎসক নিবন্ধন সনদে স্বাক্ষর করেন তিনিও ১০০ টাকা নেন। সনদের কার্ডের মূল্য ২০ টাকা, কেউ বলে ৩০ টাকা। এসব কথার তেমন কোনো ভিত্তি নেই। মোট কথা ন্যায্য টাকার পাশাপাশি তারা যেভাবেই হোক আরো ২০০-৩০০ টাকা নিতে চাইবে। আরো কারণ দেখিয়ে তারা হাজার টাকাও চেয়ে বসতে পারে। বিশেষ করে কমিশনার অফিসে কিছু দালাল থাকে। তাদের দেখে আপনি মনে করবেন যে অফিসেরই লোক। তারা টাকা আরো বেশি নেয়। এ কারণে অফিসে গিয়ে ভালো করে যাচাই করে নেবেন যে কারা আসলেই সেখানকার কর্মচারি। খরচ নিয়ে মূলামূলি করতে হবে। কখনোই মনে করবেন না ফরম জমা দেয়ার সময় যা টাকা দিয়েছেন সেটিই সব। কারণ সনদ নেয়ার সময় আবার ১০০ টাকা দিতেই হবে। তাই ন্যায্য টাকার বাইরে আগে ১০০ টাকার মতো দিয়ে রাখবেন। আর নেয়ার সময় বাকিটা দিবেন। তবে সিটি করপোরেশনেও তাদেরকে কিছু খরচাপাতি করতে হয়। কিন্তু সব সময়েই চেষ্টা করতে হবে দামাদামি করে যথাসম্ভব কম টাকা দেয়ার। সাধারণত ফরম জমা দেয়ার ২ থেকে ৩ কর্ম দিবসের মধ্যেই তারা জন্ম নিবন্ধন সনদ এনে দেয়। তখন কমিশনার অফিসে গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। ফরম জমা দেয়ার সময় অবশ্যই তাদের মোবাইল নম্বর রেখে দেবেন। সাধারণত এ অফিসগুলো সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।

জন্ম নিবন্ধন বিষয়ে আরো জানতে যেতে পারেন স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্য নিবন্ধন প্রকল্পের সাইটে।