Monday, March 17, 2014

কীভাবে ওঠাবেন জন্ম নিবন্ধন সনদ

দেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন কাজে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে আজকাল জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা জন্মনিবন্ধন সনদ লাগছে। আমাদের কারো কারো হয়তো শুধু পাসপোর্ট বা শুধু জন্ম নিবন্ধন সনদ বা শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। আবার কারো এ তিনটি মহামূল্যবান বস্তুই রয়েছে। অনেক কাজ করতে গেলে এ তিনটি কাগজই প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় জাতীয় পরিচয়পত্র করতে বা বিদেশে ভিসার জন্য লাগতে পারে জন্ম নিবন্ধন সনদ। জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ সারা বছর হয় না। কিন্তু হঠাৎ করে পাসপোর্ট করতে হলে জন্ম নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। আজকে আলোচনা করবো কীভাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয় থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হয়।

bnnessa_1286936375_1-DSC09187

প্রথমে নিজ এলাকার ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়টি খুঁজে বের করতে হবে। এরপর সেখানে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন ফরম বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যাবে। অনলাইনেও এ ফরম পাওয়া যায়। অনলাইনে ফরম পূরণ করে জমা দেয়ার ব্যবস্থাও আছে কিন্তু আমি নিজে সে চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলাম। সম্ভবত ওদের সার্ভারে কোনো সমস্যা ছিল। সে কারণে ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে ফরম নিয়ে তা পূরণ করতে হবে। জিজ্ঞেস করতে পারেন যে জমা দেয়ার সময় কী কী কাগজের ফটোকপি সাথে দিতে হবে। তাও বলে রাখি, প্রাপ্তবয়স্ক বা যার পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের সনদ রয়েছে তাকে এসব কাগজের যেকোনো একটি বা দু’টির ফটোকপি জমা দিতে হবে। যারা একদম বাচ্চা বা নবজাতক তাদের জন্য জমা দিতে হবে তার মা এবং বাবা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি। ফটোকপি সত্যায়িত না করলেও কাজ হয় কিন্তু করে রাখাই ভালো।

ইচ্ছে করলে কমিশনার অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করে কেউ সরাসরি সিটি করপোরেশনে গিয়েও কাজ করাতে পারেন। কিন্তু সেটি অসম্ভব পরিশ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। একটা পুরো দিন সেখানে চলে যেতে পারে। তাই ওয়ার্ড কমিশনার কার্যালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের কিছু টাকাপয়সা দিয়ে এ কাজটি করানো সুবিধাজনক। টাকাপয়সার প্রসঙ্গে বলি। দুই বছর বয়সের নিচের শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করতে সরকারিভাবে কোনো টাকা লাগে না। আর দুই বছরের ওপরে যেকোনো বয়সী ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়সের প্রতি বছরের জন্য ১০ টাকা করে দিতে হয়। তবে কমিশনার অফিসের লোকদের দিয়ে কাজ করাতে তাদের চা-নাশতা-যাতায়াতের জন্য কিছু খরচ দিতে হয়। সেটা আবার এলাকার ওপর ভিত্তি করে। অভিজাত এলাকায় একটু বেশি টাকা দাবি করা হয়। যেদিন ফরম জমা দেবেন সেদিন তাদেরকে ন্যায্য টাকা অর্থাৎ বয়সের প্রতি বছরের জন্য যত টাকা আসে তত টাকা দিয়ে দিতে হবে আর সাথে হয়তো আরো ১০০-২০০ টাকা দিতে হতে পারে যাতায়াতের জন্য। তবে তারা আরো টাকা দাবি করতে থাকে নানান কারণ দেখিয়ে। তাদের ভাষ্য হলো সিটি করপোরেশনে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য কম্পিউটারে ইংরেজিতে টাইপ যে করে সে ১০০ টাকা নেয়। আবার যে চিকিৎসক নিবন্ধন সনদে স্বাক্ষর করেন তিনিও ১০০ টাকা নেন। সনদের কার্ডের মূল্য ২০ টাকা, কেউ বলে ৩০ টাকা। এসব কথার তেমন কোনো ভিত্তি নেই। মোট কথা ন্যায্য টাকার পাশাপাশি তারা যেভাবেই হোক আরো ২০০-৩০০ টাকা নিতে চাইবে। আরো কারণ দেখিয়ে তারা হাজার টাকাও চেয়ে বসতে পারে। বিশেষ করে কমিশনার অফিসে কিছু দালাল থাকে। তাদের দেখে আপনি মনে করবেন যে অফিসেরই লোক। তারা টাকা আরো বেশি নেয়। এ কারণে অফিসে গিয়ে ভালো করে যাচাই করে নেবেন যে কারা আসলেই সেখানকার কর্মচারি। খরচ নিয়ে মূলামূলি করতে হবে। কখনোই মনে করবেন না ফরম জমা দেয়ার সময় যা টাকা দিয়েছেন সেটিই সব। কারণ সনদ নেয়ার সময় আবার ১০০ টাকা দিতেই হবে। তাই ন্যায্য টাকার বাইরে আগে ১০০ টাকার মতো দিয়ে রাখবেন। আর নেয়ার সময় বাকিটা দিবেন। তবে সিটি করপোরেশনেও তাদেরকে কিছু খরচাপাতি করতে হয়। কিন্তু সব সময়েই চেষ্টা করতে হবে দামাদামি করে যথাসম্ভব কম টাকা দেয়ার। সাধারণত ফরম জমা দেয়ার ২ থেকে ৩ কর্ম দিবসের মধ্যেই তারা জন্ম নিবন্ধন সনদ এনে দেয়। তখন কমিশনার অফিসে গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। ফরম জমা দেয়ার সময় অবশ্যই তাদের মোবাইল নম্বর রেখে দেবেন। সাধারণত এ অফিসগুলো সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।

জন্ম নিবন্ধন বিষয়ে আরো জানতে যেতে পারেন স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্য নিবন্ধন প্রকল্পের সাইটে

No comments:

Post a Comment