Showing posts with label কীভাবে করবেন. Show all posts
Showing posts with label কীভাবে করবেন. Show all posts

Wednesday, May 7, 2014

অনলাইনেই সেরে ফেলুন কাজ, সফটওয়্যার ডাউনলোডের দিন শেষ

দিন কে দিন সব কাজ চলে আসছে কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের ভেতরে। সিডি-ডিভিডির দিনও ফুরোতে চললো বলে। মুভিও আজকাল চালাচালি হয় পেন ড্রাইভ বা শেয়ারিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। কম্পিউটারে কাজ করার সময় প্রায়ই ছোটখাটো কাজ করতে হয় যার জন্য প্রয়োজন হয় কিছু সফটওয়্যারের। কিন্তু কষ্ট করে সফটওয়্যার ডাউনলোড করার কিন্তু প্রয়োজন নেই। অনলাইনেই অনেক কাজ করে ফেলা যায়। কাজের এরকম কিছু ওয়েবসাইট নিয়ে আজকের আয়োজন।

১। বিজয় দিয়ে আমরা অনেকেই টাইপ করতে পারি না। অভ্র বা ইউনিকোডে বেশ চলে যায় দিন। কিন্তু অভ্রের মতো এত অসাধারণ এই ফ্রিওয়্যারটি দিয়ে ছাপাখানার কাজ করা যায় না। ছাপাখানার মেশিন অভ্রতে লেখা শব্দ পড়তে পারে না। ইউনিকোড পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন ল্যাংগুয়েজ এখনো আমাদের ছাপাখানাগুলোতে আসে নি। কিন্তু ছাপানোর জন্য এখন বিজয়ে টাইপ করা শিখতে হবে এমন কোনো কথা নেই। অভ্রতে লিখে অনলাইনে বিজয়ে কনভার্ট করে নিলেই কেল্লা ফতে। ইউনিকোড বা অভ্র থেকে বিজয় এবং বিজয় থেকে অভ্র বা ইউনিকোডে লেখা রূপান্তরের খুবই কাজের একটা ওয়েবপেইজ হলো http://www.banglaconverter.com

Unicode_to_Bijoy_Converter_[ইউনিকোড_টু_বিজয়_কনভার্টার]_-_2014-05-07_13.47.59

২। এক সময় কম্পিউটার কিনে আনলে অ্যাডোবির সবকিছু সেখানে দেয়া থাকতো। এখন অনেকেই ল্যাপটপে আসল উইন্ডোজ চালাচ্ছেন। তাই সেখানে পাইরেটেড সফটওয়্যার দেয়া থাকে না। ফলে ছবি সম্পাদনা করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। অনলাইনে অনেক ছবি সম্পাদনার সাইট রয়েছে। কিন্তু আমার মতো যারা ছোটবেলা থেকে অ্যাডোবির ফটোশপ ব্যবহার করে অভ্যস্ত তারা http://www.photoshoponlinefree.com এই ওয়েবসাইটে গিয়ে বিনামূল্যে ছবি সম্পাদনার সব কাজ করতে পারবেন। সাইটটি অ্যাডোবির না হলেও অ্যাডোবি ফটোশপের আদলে তৈরি করা।

Photoshop_Online_Free_-_2014-05-07_13.45.08
৩। অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজের জন্যে পিডিএফে ফরম পূরণ করতে হতে পারে আমাদের। কিন্তু আমাদের অধিকাংশেরই কম্পিউটারে পিডিএফ পড়ার অ্যাডোবি অ্যাক্রোব্যাট রিডার আছে, কিন্তু রাইটার বা এডিটর নেই। অ্যাডোবি রাইটার আবার টাকা দিয়ে কিনতে হয়। পাইরেটেড ভার্সন খুঁজে পাওয়াও কঠিন, তা ব্যবহার করাও অনৈতিক। তাই পিডিএফ ফাইলে লেখা বা সম্পাদনার জন্য একটি চমৎকার অনলাইন পিডিএফ এডিটিং সাইট হলো www.pdfescape.com . এখানে গিয়ে পিডিএফ ফরম পূরণ, চেক/টিক মার্ক দেয়া, আগে থেকে থাকা কোনো অংশ মোছাসহ যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা যাবে।

৪। হঠাৎ করে doc বা docx ফাইলকে pdf এ কনভার্ট করার প্রয়োজন হতে পারে কিংবা উল্টোটা। আবার jpg কে pdf এ. অনেক ধরণের ফাইলকেই অন্য ধরণের ফাইলে রূপান্তর করার প্রয়োজন হতে পারে কাজের প্রয়োজনে। আর অনলাইনে এ কনভারসনের কাজগুলো বিনামূল্যে করে দেবে convertonlinefree.com সাইটটি। কোনো রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন নেই। কনভার্ট করে সরাসরি ডাউনলোড করে নেয়া যাবে।

Convert_DOC_to_PDF_Online_Convert_DOCX_to_PDF_Online_Convert_Word_to_PDF_Online_Free_online_converter_-_2014-05-07_13.50.03

convertonlinefree এর ওয়েবপেইজ

৫। একাধিক পিডিএফ ফাইল জয়েন করতে চলে যেতে পারেন pdfjoin.com এ।

৬। অনুষ্ঠানে বাজানোর জন্য বা রিংটোন বানানোর জন্য এমপিথ্রি ফরমেটের গান কাটতে হতে পারে। হয়তো গানের পছন্দের অংশটুকু কেটে আলাদা করতে চান সেক্ষেত্রে কাজটি খুব সহজে করা যাবে mp3cut.net এ।

৭। ছবি এবং ভিডিও সম্পাদনের চমৎকার একটি সাইট হলো www134.lunapic.com. খুব সহজেই ছবিতে বিভিন্ন ইফেক্ট দেয়া যায়। হটাৎ করে কোনো ছবিতে ওয়াটার মার্ক বসাতে, সাদাকালো করতে কিংবা স্কেচ ইফেক্ট দিতে এ সাইটটি আমি অনেকবার ব্যবহার করেছি।

সবশেষে আসি একটি মজার জিনিসে। অনলাইনে নক্ষত্রের অবস্থান আর মহাকাশ সম্পর্কে জানার চমৎকার একটি সাইট হচ্ছে neave.com/planetarium. সাইটে প্রবেশ করার সাথে সাথেই পিসির স্ক্রিন এক উন্মুক্ত আকাশে পরিণত হবে। আপনি যে অবস্থানে আছে ঠিক সে অবস্থান থেকে আকাশের দিকে তাকালে কোন তারাটি কোথায় অবস্থান করবে তাও দেখা যাবে এখানে। পৃথিবীর অপর প্রান্তে গিয়েও আকাশ দেখা যাবে।

কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড না করেই টুকটাক কাজ অনলাইনে করে ফেলতে পারলে আসলেই ভালো লাগে। হার্ডড্রাইভের জায়গাও বাঁচে, কাজও হয়। তবে এসব কাজের জন্য একটু দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে ভালো হয়। নইলে কাজ করতে করতে বিরক্তি চলে আসে।

Saturday, April 5, 2014

কীভাবে অনলাইনে ভারতের ভিসার জন্য আবেদন করবেন- ১ম পর্ব

বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের ভারত যেতে হতে পারে। চিকিৎসা, ভ্রমণ হলো সাধারণ কিছু কারণ। আর অনেকের তো বিয়ের কেনাকাটা কোলকাতা থেকে করতে না পারলে জীবনই বৃথা। এছাড়া অনেকের আত্মীয়-স্বজন আছে সে দেশে। আমাদের দেশের তিনদিকে ভারত হওয়ায় স্থলপথে নেপাল কিংবা ভুটান যেতে হলেও ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয়। যেকোনো দেশের ভিসা পাওয়ার চেয়ে এখন ভারতের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম কারণ প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে যাওয়ার জন্য আবেদন করে থাকেন। এক সময় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল নিতে হতো। এখন অনলাইনে আবেদন করে সাক্ষাতের তারিখ নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিয়ে ভারতের হাইকমিশনে হাজির হতে হয়। আজকে আলোচনা করবো কীভাবে অনলাইনে ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় তা নিয়ে।

প্রথমেই http://indianvisaonline.gov.in/visa/ এই পেইজে গিয়ে Online Visa Application Registration বাটনে ক্লিক করলেই ফরম চলে আসবে। ফরমের উপরের দিকে Temporary Application ID বলে একটা নাম্বার দেয়া থাকবে। ফরম পূরণের আগেই নাম্বারটি লিখে রাখুন। কেননা ফরমের কিছু অংশ পূরণ করে পরে বাকিটা পূরণ করতে চাইলে ঐ আইডি ব্যবহার করে যতটুকু আগেই করে রেখেছেন তার পর থেকে বাকিটা পূরণ করা যাবে।  বিভিন্ন ঘর পূরণ করতে গিয়ে আমাদেরকে বেশকিছু সংশয়ের মধ্যে পড়তে হয়। সেজন্য খুব মনোযোগ দিয়ে ফরম পূরণ করা জরুরি। প্রথম পৃষ্ঠার সবগুলো আবশ্যিক ঘর পূরণ না করে আপনি পরবর্তী পৃষ্ঠায় যেতে পারবেন না। একদম প্রথম ঘরে আপনি বাংলাদেশে ভারতের কোন মিশন অফিসে থেকে আবেদন করছেন তা নির্বাচন করবেন। ওখানে অপশনের মধ্যে ঢাকা, চিটাগাং এবং রাজশাহী রয়েছে। আপনি আপনার নিকটস্থ মিশন নির্বাচন করবেন। এরপর আপনার নাম, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান (জেলার নাম) এগুলো পূরণ করে citizenship/national id নম্বরের ঘরে যাবেন। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের Personal Identification Number টি দিবেন। অর্থাৎ, পাসপোর্টে ব্যক্তিগত নম্বরের ঘরে যে সংখ্যাটি থাকে সেটিই দিতে হবে। কেননা পাসপোর্টের ঐ সংখ্যাটি আসলে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আর তা না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদ থেকেই নেয়া হয়। Visible Identification Mark এর ঘরে আপনাকে দেখেই খুঁজে পাওয়া যায় এমন কোনো চিহ্নের উল্লেখ করবেন যেমন- মুখের কোনো কাটা দাগ, তিল, জন্মদাগ বা হাত কিংবা পায়ের নিচের দিকের কোনো দাগ যা সহজেই দেখা যায়। এরপর আপনাকে পাসপোর্টে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এখানে মনে রাখতে হবে, আপনার পাসপোর্ট যদি মেশিন রিডেবল হয়, তাহলে আপনি বাংলাদেশের যে অঞ্চল থেকেই পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন না কেন Place of Issue হবে ঢাকা।

Online_Indian_Visa_Form_-_2014-04-05_16.03.4822222

প্রথম পৃষ্ঠা পূরণ শেষে একটি ক্যাপচা পূরণ করে ২য় পৃষ্ঠায় যেতে হবে। সেখানে রয়েছে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা লেখার ঘর। বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা এক হলে বর্তমান ঠিকানা লিখে একটা জায়গায় রয়েছে টিক চিহ্ন দেয়ার সেখানে ক্লিক করলেই স্থায়ী ঠিকানার ঘর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে। এরপর আপনার মা-বাবার নাম ও বিস্তারিত লেখার ঘর আসবে। তারপর একটা অপশনে রয়েছে যে আপনার নানা-নানী, দাদা-দাদী কি পাকিস্তান বা পাকিস্তানের দখলকৃত অঞ্চলের নাগরিক বা সেখানে বাস করতেন কিনা। এখানে No দেয়াই শ্রেয়। এখানে পাকিস্তান বলতে পাকিস্তানই বোঝানো হয়েছে। ৭১ এর আগের পূর্ব পাকিস্তানকে নির্দেশ করা হয় নি। মা-বাবার জন্মস্থান বলতে জন্মের জেলাকে বোঝানো হয়েছে। Occupation Detail of Applicant অংশে আপনার পেশার বিস্তারিত দিতে হবে। তবে আপনি ছাত্র হলে যখন Student নির্বাচন করবেন তখন আরেকটি অপশন আসবে আপনার বাবা অথবা স্বামী/স্ত্রী’র পেশার বিস্তারিত দেয়ার জন্য বলা হবে। বাবা মৃত হলে এবং আপনি অবিবাহিত হলে বাবার শেষ পেশা, চাকরি/ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা দিতে হবে। আর Designation অংশে Retired লিখে এরপর পদের নাম লিখতে হবে। বাবা অবসরে থাকলেও একই কথা প্রযোজ্য। তৃতীয় পৃষ্ঠায় আপনার ভিসার ধরণ, ভিসার মেয়াদ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য সংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করতে হবে। কোন পথে ভারতে প্রবেশ করবেন এবং কোন পথে বের হবেন তাও আপনাকে নির্বাচন করে দিতে হবে। আকাশপথ হলে by air দিতে হবে। যেমন- বেনাপোল দিয়ে যদি আপনি বাংলাদেশ থেকে বের হন তাহলে port of entry দিতে হবে By road Haridaspur. ওদিক দিয়ে বের হলেও একই। আর বুড়িমারী দিয়ে বাংলাদেশ দিয়ে বের হলে দিতে হবে by road Changrabandha.     (চলবে)

Monday, March 17, 2014

কীভাবে ওঠাবেন জন্ম নিবন্ধন সনদ

দেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন কাজে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে আজকাল জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা জন্মনিবন্ধন সনদ লাগছে। আমাদের কারো কারো হয়তো শুধু পাসপোর্ট বা শুধু জন্ম নিবন্ধন সনদ বা শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। আবার কারো এ তিনটি মহামূল্যবান বস্তুই রয়েছে। অনেক কাজ করতে গেলে এ তিনটি কাগজই প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় জাতীয় পরিচয়পত্র করতে বা বিদেশে ভিসার জন্য লাগতে পারে জন্ম নিবন্ধন সনদ। জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ সারা বছর হয় না। কিন্তু হঠাৎ করে পাসপোর্ট করতে হলে জন্ম নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। আজকে আলোচনা করবো কীভাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয় থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হয়।

bnnessa_1286936375_1-DSC09187

প্রথমে নিজ এলাকার ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়টি খুঁজে বের করতে হবে। এরপর সেখানে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন ফরম বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যাবে। অনলাইনেও এ ফরম পাওয়া যায়। অনলাইনে ফরম পূরণ করে জমা দেয়ার ব্যবস্থাও আছে কিন্তু আমি নিজে সে চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলাম। সম্ভবত ওদের সার্ভারে কোনো সমস্যা ছিল। সে কারণে ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে ফরম নিয়ে তা পূরণ করতে হবে। জিজ্ঞেস করতে পারেন যে জমা দেয়ার সময় কী কী কাগজের ফটোকপি সাথে দিতে হবে। তাও বলে রাখি, প্রাপ্তবয়স্ক বা যার পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের সনদ রয়েছে তাকে এসব কাগজের যেকোনো একটি বা দু’টির ফটোকপি জমা দিতে হবে। যারা একদম বাচ্চা বা নবজাতক তাদের জন্য জমা দিতে হবে তার মা এবং বাবা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি। ফটোকপি সত্যায়িত না করলেও কাজ হয় কিন্তু করে রাখাই ভালো।

ইচ্ছে করলে কমিশনার অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করে কেউ সরাসরি সিটি করপোরেশনে গিয়েও কাজ করাতে পারেন। কিন্তু সেটি অসম্ভব পরিশ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। একটা পুরো দিন সেখানে চলে যেতে পারে। তাই ওয়ার্ড কমিশনার কার্যালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের কিছু টাকাপয়সা দিয়ে এ কাজটি করানো সুবিধাজনক। টাকাপয়সার প্রসঙ্গে বলি। দুই বছর বয়সের নিচের শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করতে সরকারিভাবে কোনো টাকা লাগে না। আর দুই বছরের ওপরে যেকোনো বয়সী ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়সের প্রতি বছরের জন্য ১০ টাকা করে দিতে হয়। তবে কমিশনার অফিসের লোকদের দিয়ে কাজ করাতে তাদের চা-নাশতা-যাতায়াতের জন্য কিছু খরচ দিতে হয়। সেটা আবার এলাকার ওপর ভিত্তি করে। অভিজাত এলাকায় একটু বেশি টাকা দাবি করা হয়। যেদিন ফরম জমা দেবেন সেদিন তাদেরকে ন্যায্য টাকা অর্থাৎ বয়সের প্রতি বছরের জন্য যত টাকা আসে তত টাকা দিয়ে দিতে হবে আর সাথে হয়তো আরো ১০০-২০০ টাকা দিতে হতে পারে যাতায়াতের জন্য। তবে তারা আরো টাকা দাবি করতে থাকে নানান কারণ দেখিয়ে। তাদের ভাষ্য হলো সিটি করপোরেশনে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য কম্পিউটারে ইংরেজিতে টাইপ যে করে সে ১০০ টাকা নেয়। আবার যে চিকিৎসক নিবন্ধন সনদে স্বাক্ষর করেন তিনিও ১০০ টাকা নেন। সনদের কার্ডের মূল্য ২০ টাকা, কেউ বলে ৩০ টাকা। এসব কথার তেমন কোনো ভিত্তি নেই। মোট কথা ন্যায্য টাকার পাশাপাশি তারা যেভাবেই হোক আরো ২০০-৩০০ টাকা নিতে চাইবে। আরো কারণ দেখিয়ে তারা হাজার টাকাও চেয়ে বসতে পারে। বিশেষ করে কমিশনার অফিসে কিছু দালাল থাকে। তাদের দেখে আপনি মনে করবেন যে অফিসেরই লোক। তারা টাকা আরো বেশি নেয়। এ কারণে অফিসে গিয়ে ভালো করে যাচাই করে নেবেন যে কারা আসলেই সেখানকার কর্মচারি। খরচ নিয়ে মূলামূলি করতে হবে। কখনোই মনে করবেন না ফরম জমা দেয়ার সময় যা টাকা দিয়েছেন সেটিই সব। কারণ সনদ নেয়ার সময় আবার ১০০ টাকা দিতেই হবে। তাই ন্যায্য টাকার বাইরে আগে ১০০ টাকার মতো দিয়ে রাখবেন। আর নেয়ার সময় বাকিটা দিবেন। তবে সিটি করপোরেশনেও তাদেরকে কিছু খরচাপাতি করতে হয়। কিন্তু সব সময়েই চেষ্টা করতে হবে দামাদামি করে যথাসম্ভব কম টাকা দেয়ার। সাধারণত ফরম জমা দেয়ার ২ থেকে ৩ কর্ম দিবসের মধ্যেই তারা জন্ম নিবন্ধন সনদ এনে দেয়। তখন কমিশনার অফিসে গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। ফরম জমা দেয়ার সময় অবশ্যই তাদের মোবাইল নম্বর রেখে দেবেন। সাধারণত এ অফিসগুলো সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।

জন্ম নিবন্ধন বিষয়ে আরো জানতে যেতে পারেন স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্য নিবন্ধন প্রকল্পের সাইটে।

Friday, March 14, 2014

কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ওঠাবেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর অধিভুক্ত কলেজ/প্রতিষ্ঠানে যারা পড়াশুনা করেছেন বা করছেন তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ওঠাতে হতে পারে। একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সাথে মার্কশিট বা গ্রেডশিটের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বলতে বোঝায় ডিগ্রির বিস্তারিত নম্বরপত্র যেখানে শুধু আপনি কত মার্ক বা গ্রেড পেয়েছেন তাই নয় বরং  কোর্সের নাম, ক্রেডিট ঘন্টা, প্রতি বছরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ, পরীক্ষা রোল নম্বর, শ্রেণিতে মোট কত সংখ্যক শিক্ষার্থী ছিল, ভর্তি শিক্ষাবর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন নম্বর- এসব কিছুই থাকবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো অত্যাবশ্যক। আবার অনেক সময় বিদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানে মূল ট্রান্সক্রিপ্ট না পাঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সক্রিপ্ট সেকশন দ্বারা সত্যায়িত কপি পাঠাতে হয়। আজকের লেখায় ট্রান্সক্রিপ্ট ওঠানোর বিস্তারিত পদ্ধতি ও পরবর্তী লেখায় তা সত্যায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করবো।

Registry-Building

ছবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবন

ট্রান্সপ্রিপ্ট ওঠানোর জন্য যে কাগজপত্রগুলো আগে থেকেই জোগাড় করে ফটোকপি করে সত্যায়িত করে রাখতে হবেঃ

১। বয়স প্রমাণের জন্য এসএসসি পরীক্ষার সনদপত্র

২। পরিচয় এবং স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট

৩। কলেজ/ ইনস্টিটিউট/বিভাগ বা রেজিস্ট্রার বিল্ডিং থেকে প্রাপ্ত প্রতি বছরের নম্বরপত্র বা গ্রেডশিট। চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার নম্বরপত্র/গ্রেডশিট রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর নম্বরপত্রী শাখা প্রদান করে থাকে।

৪। সম্পূর্ণ ডিগ্রির সিলেবাসের কপি

উল্লেখ্য, এসএসসির সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের দিয়ে সত্যায়িত করাতে পারেন। প্রতি বছরের নম্বরপত্র এবং সিলেবাসের কপি সত্যায়িত না করালেও চলে কিন্তু হঠাৎ করে সত্যায়িত করা কপিও চেয়ে বসতে পারে। তাই নম্বরপত্র বা সিলেবাস নিজ বিভাগ/ইনস্টিটিউটের শিক্ষক/ কলেজের অধ্যাপক/বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত করিয়ে রাখা শ্রেয়।

এবার শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এ দৌড়াদৌড়ি। রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর তিন তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষ হলো ট্রান্সক্রিপ্ট সেকশন। এই কক্ষ থেকে ৫০ টাকা পরিশোধ করে ট্রান্সক্রিট উত্তোলনের ফরম নিতে হবে। কক্ষের দরজায় উপরে বর্ণিত নিয়মাবলী দেয়া রয়েছে। ফরমটির কয়েকটি পৃষ্ঠা রয়েছে কিন্তু শুধুমাত্র প্রথম পৃষ্ঠাটি পূরণ করতে হবে। ভেতরের পৃষ্ঠাগুলো পূরণ করার প্রয়োজন নেই। উপরে উল্লিখিত কাগজপত্রগুলো সাথে থাকলে তখনই ফরমটি পূরণ করে দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে দিতে পারবেন। তখন সংযুক্ত কাগজপত্র নিরীক্ষা করে তিনি কত টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে তা ফরমের ওপরে লিখে দেবেন। প্রতি কপি ট্রান্সক্রিপ্টের মূল্য ৪০০ টাকা। ইম্প্রুভমেন্ট অথবা রেফার্ড থাকলে প্রতিটি ইম্প্রুভমেন্ট বা রেফার্ডের জন্য অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে জমা দিতে হবে। স্নাতক, স্নাতক (সম্মান) এবং  মাস্টার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট একত্রে তুলতে হলে ৫০০ টাকা লাগবে। স্নাতক, স্নাতক (সম্মান), মাস্টার্স বা অন্য ডিগ্রির ট্রান্সক্রিপ্ট আলাদা তুলতে চাইলে শুরুতেই একাধিক ফরম নিতে হবে। যেমন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত মেডিকেল কলেজের/ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস, এমফিল, এমএস, এফসিপিএস ডিগ্রির আলাদা ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে হবে। সেজন্য প্রতিটি ডিগ্রির জন্য আলাদা ফরম নিতে হবে। বিদেশে পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত খামও নিতে হয়। সেটির মূল্য ৪০০ টাকা।

ফরমের ওপর খামসহ মোট টাকার পরিমাণ লিখে দিলে তা নিয়ে টিএসসিতে অবস্থিত জনতা ব্যাংকে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে হলুদ রঙের ডিপোজিট স্লিপ পূরণ করে টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেয়ার সময় টাকার অংক লেখা ফরম অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে। ডিপোজিট স্লিপে নাম, ঠিকানা, কি বাবদ টাকা জমা দিতে হচ্ছে (এক্ষেত্রে ট্রান্সক্রিপ্ট) তা লিখতে হবে। টাকা জমা দেয়ার পর ব্যাংকের স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে দিলে এই পে-স্লিপ নিয়ে আবারো রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর ৩০৫ নম্বর কক্ষে যেতে হবে। সেখানে ফরম ও পে স্লিপ প্রদর্শন করলে তারা স্লিপের পেছনে ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহের একটি তারিখ লিখে দেবে (সাধারণত ২০ দিন থেকে ৩০ দিন পর)। এরপর ফরমটি একটি বাক্সে রেখে দিয়ে হলুদ রঙের স্লিপটি সাথে নিয়ে আসতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে।

oshantolight_1324745351_1-Dhaka-University__1_

ছবি: টিএসসি

স্লিপে লেখা তারিখে সকাল সকাল ৩০৫ নম্বর কক্ষে চলে যেতে হবে। স্লিপ দেখালে তারা খসড়া ট্রান্সক্রিপ্ট বের করে দিবে। এরপর বসে বসে চেক করে দেখতে হবে কোনো ভুল আছে কিনা। ভুল থাকলে তা চিহ্নিত করতে হবে। চেক করা শেষ হলে কম্পিউটার অপারেটরের পাশে বসে তা কম্পিউটারে অবস্থিত সফট কপিতে সংশোধন করিয়ে নিতে হবে। সংশোধন সম্পন্ন হলে তারা ট্রান্সক্রিপ্টের সংশোধিত কপি ওখানেই প্রিন্ট দিয়ে বের করে দিবে। এরপর তারা বিকেল ৪ টার দিকে আসতে বলবে উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরসহ ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহের জন্য। ৪ টার দিকে গিয়ে প্রতি পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর আছে কিনা তা চেক করে ট্রান্সক্রিপ্ট গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণ করার সময় একটি রেজিস্ট্রার খাতায় তারা আপনার স্বাক্ষর নেবে এবং রেজিস্ট্রার খাতার একটি সিরিয়াল নম্বর ট্রান্সক্রিপ্টের প্রথম পৃষ্টার নিচে বাম দিকে DUTN এর পাশে লিখে দেবে।

উল্লেখ্য, জরুরি ভিত্তিতে ৭ দিনের মধ্যে ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে চাইলে প্রথম ফরম গ্রহণের সময়েই তা বলতে হবে এবং প্রতি কপির জন্য অতিরিক্ত ৪০০ টাকা করে জমা দিতে হবে।

ছবি কৃতজ্ঞতা: dutimz এবং somewhereinblog