Friday, March 14, 2014

কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ওঠাবেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর অধিভুক্ত কলেজ/প্রতিষ্ঠানে যারা পড়াশুনা করেছেন বা করছেন তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ওঠাতে হতে পারে। একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সাথে মার্কশিট বা গ্রেডশিটের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বলতে বোঝায় ডিগ্রির বিস্তারিত নম্বরপত্র যেখানে শুধু আপনি কত মার্ক বা গ্রেড পেয়েছেন তাই নয় বরং  কোর্সের নাম, ক্রেডিট ঘন্টা, প্রতি বছরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ, পরীক্ষা রোল নম্বর, শ্রেণিতে মোট কত সংখ্যক শিক্ষার্থী ছিল, ভর্তি শিক্ষাবর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন নম্বর- এসব কিছুই থাকবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো অত্যাবশ্যক। আবার অনেক সময় বিদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানে মূল ট্রান্সক্রিপ্ট না পাঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সক্রিপ্ট সেকশন দ্বারা সত্যায়িত কপি পাঠাতে হয়। আজকের লেখায় ট্রান্সক্রিপ্ট ওঠানোর বিস্তারিত পদ্ধতি ও পরবর্তী লেখায় তা সত্যায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করবো।

Registry-Building

ছবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবন

ট্রান্সপ্রিপ্ট ওঠানোর জন্য যে কাগজপত্রগুলো আগে থেকেই জোগাড় করে ফটোকপি করে সত্যায়িত করে রাখতে হবেঃ

১। বয়স প্রমাণের জন্য এসএসসি পরীক্ষার সনদপত্র

২। পরিচয় এবং স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট

৩। কলেজ/ ইনস্টিটিউট/বিভাগ বা রেজিস্ট্রার বিল্ডিং থেকে প্রাপ্ত প্রতি বছরের নম্বরপত্র বা গ্রেডশিট। চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার নম্বরপত্র/গ্রেডশিট রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর নম্বরপত্রী শাখা প্রদান করে থাকে।

৪। সম্পূর্ণ ডিগ্রির সিলেবাসের কপি

উল্লেখ্য, এসএসসির সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের দিয়ে সত্যায়িত করাতে পারেন। প্রতি বছরের নম্বরপত্র এবং সিলেবাসের কপি সত্যায়িত না করালেও চলে কিন্তু হঠাৎ করে সত্যায়িত করা কপিও চেয়ে বসতে পারে। তাই নম্বরপত্র বা সিলেবাস নিজ বিভাগ/ইনস্টিটিউটের শিক্ষক/ কলেজের অধ্যাপক/বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত করিয়ে রাখা শ্রেয়।

এবার শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এ দৌড়াদৌড়ি। রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর তিন তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষ হলো ট্রান্সক্রিপ্ট সেকশন। এই কক্ষ থেকে ৫০ টাকা পরিশোধ করে ট্রান্সক্রিট উত্তোলনের ফরম নিতে হবে। কক্ষের দরজায় উপরে বর্ণিত নিয়মাবলী দেয়া রয়েছে। ফরমটির কয়েকটি পৃষ্ঠা রয়েছে কিন্তু শুধুমাত্র প্রথম পৃষ্ঠাটি পূরণ করতে হবে। ভেতরের পৃষ্ঠাগুলো পূরণ করার প্রয়োজন নেই। উপরে উল্লিখিত কাগজপত্রগুলো সাথে থাকলে তখনই ফরমটি পূরণ করে দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে দিতে পারবেন। তখন সংযুক্ত কাগজপত্র নিরীক্ষা করে তিনি কত টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে তা ফরমের ওপরে লিখে দেবেন। প্রতি কপি ট্রান্সক্রিপ্টের মূল্য ৪০০ টাকা। ইম্প্রুভমেন্ট অথবা রেফার্ড থাকলে প্রতিটি ইম্প্রুভমেন্ট বা রেফার্ডের জন্য অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে জমা দিতে হবে। স্নাতক, স্নাতক (সম্মান) এবং  মাস্টার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট একত্রে তুলতে হলে ৫০০ টাকা লাগবে। স্নাতক, স্নাতক (সম্মান), মাস্টার্স বা অন্য ডিগ্রির ট্রান্সক্রিপ্ট আলাদা তুলতে চাইলে শুরুতেই একাধিক ফরম নিতে হবে। যেমন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত মেডিকেল কলেজের/ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস, এমফিল, এমএস, এফসিপিএস ডিগ্রির আলাদা ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে হবে। সেজন্য প্রতিটি ডিগ্রির জন্য আলাদা ফরম নিতে হবে। বিদেশে পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত খামও নিতে হয়। সেটির মূল্য ৪০০ টাকা।

ফরমের ওপর খামসহ মোট টাকার পরিমাণ লিখে দিলে তা নিয়ে টিএসসিতে অবস্থিত জনতা ব্যাংকে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে হলুদ রঙের ডিপোজিট স্লিপ পূরণ করে টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেয়ার সময় টাকার অংক লেখা ফরম অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে। ডিপোজিট স্লিপে নাম, ঠিকানা, কি বাবদ টাকা জমা দিতে হচ্ছে (এক্ষেত্রে ট্রান্সক্রিপ্ট) তা লিখতে হবে। টাকা জমা দেয়ার পর ব্যাংকের স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে দিলে এই পে-স্লিপ নিয়ে আবারো রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর ৩০৫ নম্বর কক্ষে যেতে হবে। সেখানে ফরম ও পে স্লিপ প্রদর্শন করলে তারা স্লিপের পেছনে ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহের একটি তারিখ লিখে দেবে (সাধারণত ২০ দিন থেকে ৩০ দিন পর)। এরপর ফরমটি একটি বাক্সে রেখে দিয়ে হলুদ রঙের স্লিপটি সাথে নিয়ে আসতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে।

oshantolight_1324745351_1-Dhaka-University__1_

ছবি: টিএসসি

স্লিপে লেখা তারিখে সকাল সকাল ৩০৫ নম্বর কক্ষে চলে যেতে হবে। স্লিপ দেখালে তারা খসড়া ট্রান্সক্রিপ্ট বের করে দিবে। এরপর বসে বসে চেক করে দেখতে হবে কোনো ভুল আছে কিনা। ভুল থাকলে তা চিহ্নিত করতে হবে। চেক করা শেষ হলে কম্পিউটার অপারেটরের পাশে বসে তা কম্পিউটারে অবস্থিত সফট কপিতে সংশোধন করিয়ে নিতে হবে। সংশোধন সম্পন্ন হলে তারা ট্রান্সক্রিপ্টের সংশোধিত কপি ওখানেই প্রিন্ট দিয়ে বের করে দিবে। এরপর তারা বিকেল ৪ টার দিকে আসতে বলবে উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরসহ ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহের জন্য। ৪ টার দিকে গিয়ে প্রতি পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর আছে কিনা তা চেক করে ট্রান্সক্রিপ্ট গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণ করার সময় একটি রেজিস্ট্রার খাতায় তারা আপনার স্বাক্ষর নেবে এবং রেজিস্ট্রার খাতার একটি সিরিয়াল নম্বর ট্রান্সক্রিপ্টের প্রথম পৃষ্টার নিচে বাম দিকে DUTN এর পাশে লিখে দেবে।

উল্লেখ্য, জরুরি ভিত্তিতে ৭ দিনের মধ্যে ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে চাইলে প্রথম ফরম গ্রহণের সময়েই তা বলতে হবে এবং প্রতি কপির জন্য অতিরিক্ত ৪০০ টাকা করে জমা দিতে হবে।

ছবি কৃতজ্ঞতা: dutimz এবং somewhereinblog

No comments:

Post a Comment