Showing posts with label outdoor. Show all posts
Showing posts with label outdoor. Show all posts

Thursday, October 31, 2013

গিট্টু কেরামতি - এসো গিট্টু লাগাই

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দড়ির কাজের কোন বিকল্প নেই। সকালে জুতার ফিতা বাঁধা থেকে শুরু করে রাতে মশারির টাঙ্গানো পর্যন্ত প্রতিদিন অসংখ্যবার আমাদের “গিট্টু” বা গেরো মারতে হয়। আর outdoor কর্মকাণ্ড বা ক্যাম্পিং হলে তো কোন কথাই নেই। তাঁবু খাটাতে, কাপড় শুকানোর দড়ি টানাতে, সেলাই করতে, দুইটা দড়ি জোড়া দিয়ে লম্বা করতে, কোন কার্টুন প্যাকিং করতে, এরকম অসংখ্য প্রয়োজনে প্রতিদিন আমাদের গিট্টু কাজে লাগে।

গেরোর প্রকারভেদের কোন অভাব নেই। বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের গেরো ব্যবহার করা হয়। তাও মৌলিক কিছু গেরো জানলে প্রতিদিনের অনেক কাজ সহজে করা যায়।

Thumb Knot – দড়ির কাজের শুরু এটা দিয়েই। খুবই সহজ।

[caption id="attachment_389" align="aligncenter" width="361"]Thumb Knot, Photo Courtesy: 66thlondon.org Thumb Knot, Photo Courtesy: 66thlondon.org[/caption]

ব্যবহার - দড়ির দুই মাথায় থাম্ব নট দিয়ে রাখা একটা ভাল অভ্যাস। এটা দড়ির দুই মাথার সুতা বের হওয়া রোধ করে।

Square Knot/Reef Knot – মূলত দুইটা সমান মোটা বা পুরুত্বের দড়ি জোড়া দেয়ার জন্য এই গেরো ব্যবহার করা হয়।

[caption id="attachment_390" align="aligncenter" width="212"]Square Knot/Reef Knot, Photo Courtesy: coustructionmanuals.tpub.com Square Knot/Reef Knot, Photo Courtesy: coustructionmanuals.tpub.com[/caption]

ব্যবহার – কিছু প্যাঁচানো শেষে দড়ির দুই মাথা জোড়া দিতে এই গেরো ব্যবহার করা হয়। এছাড়া দুইটা দড়ি জোড়া দিতেও এই গেরো কাজে লাগে। দাক্তারিতেও এর ব্যবহার আছে। সাধারণত ব্যান্ডেজ বা স্লিং শেষে এই গেরো মারা হয়।

Shoelace Bow – ছোটবেলা থেকেই অনেকের জুতার ফিতা বাঁধতে সমস্যা হয়। আমার পরিচিত অনেকের এখনও এই সমস্যা রয়ে গেছে।

[caption id="attachment_391" align="alignleft" width="346"]Shoelace knot, Photo Courtesy: sites.google.com/site/laurabrarian Shoelace knot, Photo Courtesy: sites.google.com/site/laurabrarian[/caption]

 

[caption id="attachment_393" align="alignright" width="396"]Shoelace Bow, Photo Courtesy: animatedknots.com Shoelace Bow, Photo Courtesy: animatedknots.com[/caption]

 

 

 

 

 

 

 

ব্যবহার – অবশ্যই জুতার ফিতা বাঁধতে। এছাড়া ফসকা প্রকৃতির হওয়ায় (এক মাথা ধরে তান দিলেই খুলে যায়) এর বিবিধ ব্যবহার রয়েছে।

Clove Hitch – দড়ির এক প্রান্ত কোন খুঁটিতে শক্ত করে বাঁধতে এটা ব্যবহার করা হয়। মজার ব্যাপার হল যত টানা হয় এই গেরো তত মজবুত হয়, শিথিল করলেই ঢিলা হয়ে যায়।

[caption id="attachment_394" align="aligncenter" width="288"]Photo Courtesy: familythorton.wordpress.com Photo Courtesy: familythorton.wordpress.com[/caption]

ব্যবহার – সুতার সাথে বড়শি বাঁধতে ব্যবহার করা হয়।

Sheet Bend – দুইটা অসমান পুরুত্বের দড়ি জোড়া দিতে এই গেরো ব্যবহৃত হয়।

[caption id="attachment_395" align="aligncenter" width="360"]Sheetbend, Photo Courtesy: animatedknots.com Sheetbend, Photo Courtesy: animatedknots.com[/caption]

ব্যবহার – পাল টানাতে। এছাড়া একটা মোটা আর একটা চিকন দড়ি জোড়া দিতে এর জুড়ি নেই, বাঁধন অনেক শক্ত হয়।

Bow Line – এই গেরোর বৈশিষ্ট্য হল, লুপ যতটুকু রেখে গেরো বাঁধা হবে ততটুকুতেই আটকে যায়, টানাটানি করলেও বড় বা ছোট হয় না।

[caption id="attachment_396" align="aligncenter" width="237"]Bowline, Phhoto Courtesy: menshealth.com Bowline, Phhoto Courtesy: menshealth.com[/caption]

ব্যবহার – টানাটানি করলে ছোট বা বড় হয় না দেখে অনেক উদ্ধার কাজে এর ব্যবহার আছে। বিপদগ্রস্থ মানুষকে গর্ত থেকে তুলতে বা উঁচা জায়গা থেকে নামাতে কোমরে বা বুকের কাছে এই গেরো মারা হয়। ওজনে টান খেয়ে লুপ ছোট হয়ে গেলে দড়ির চাপেই মানুষের বারটা বাজবে।

Fisherman’s Knot – দুইটি ভিজা দড়ি জোড়া দিতে এর জুড়ি নেই। এবং খুবই সহজ, Thumb Knot দিতে পারলেই চলে। অনেক সময় জোড়া আরও মজবুত করার জন্য একেক প্রান্তে দুটি লুপ করে Thumb Knot দেয়া হয়। ওটাকে Double Fisherman’s Knot বলে।

[caption id="attachment_397" align="aligncenter" width="203"]Fisherman's Knot, Photo Courtesy: wilderness-survival.net Fisherman's Knot, Photo Courtesy: wilderness-survival.net[/caption]

ব্যবহার – ভেজা দড়ি জোড়া দিতে ব্যবহার করা হয় বলে জেলেদের মধ্যে এর প্রচলন সবচেয়ে বেশি।

Marline Spike Hitch – দড়ির মাঝখানে এক বা একাধিক লাঠি বাঁধতে এর তুলনা নেই।

[caption id="attachment_398" align="aligncenter" width="191"]Marlin Spike Hitch, Photo Courtesy: pioneeringmadeeasy.co.uk Marlin Spike Hitch, Photo Courtesy: pioneeringmadeeasy.co.uk[/caption]

ব্যবহার – দড়ি ও লাঠি বা বাঁশ দিয়ে মই বানাতে কাজে লাগে।

Square Lashing – ল্যাশিং সাধারণত দুই বা তার বেশি লাঠি দড়ি দিয়ে জোড়া দিতে ব্যবহার করা হয়। লাঠি বা বাঁশের কাঠামো তৈরি করতে লাশিং এর বিকল্প নেই। যেকোনো কাঠামোতে স্কয়ার ল্যাশিং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ল্যাশিং। এছাড়া প্রয়োজন ভেদে আরও অনেক প্রকারের ল্যাশিং এর ব্যবহার আছে।

স্কয়ার ল্যাশিং ব্যবহার করা হয় দুইটি লাঠিকে পরস্পরের লম্বভাবে (+ চিহ্নের মত) জোড়া দিতে। এর শুরু এবং শেষ হয় Clove Hitch দিয়ে।

[caption id="attachment_399" align="aligncenter" width="313"]Square Lashing, Photo Courtesy: tinhkhiet.org Square Lashing, Photo Courtesy: tinhkhiet.org[/caption]

এছাড়া আরও অসংখ্য গেরো ও ল্যাশিং আছে। একেকটা একেক কাজের জন্য। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সবগুলোর প্রয়োজন না থাকলেও মৌলিক কিছু শিখে রাখলে প্রতিদিন অনেক কাজে দিবে। পরের বার নিজের জুতার ফিতা নিজেই বাঁধবেন, নিজের বস্তা নিজেই পেঁচাবেন, নিজের কাপড় শুকানোর দড়ি নিজেই টাঙাবেন।

Sunday, August 25, 2013

দিক ঠিক করুন - কম্পাস ছাড়াই !

সত্য কথা বলতে আমরা ঢাকাবাসীরা দিক নিয়ে বেশি চিন্তা করি না, চিন্তার কোন প্রয়োজনও পড়ে না। কোন দিক পূর্ব বা পশ্চিম, তাতে আমার কি? রাস্তা চিনলেই ঢাকা শহরে চলা যায়, রাস্তা কোন দিক যায় তাতে কার কি আসে যায়? ডান বাম চিনলেই চলে। আমার নানা জাতীয় মুরুব্বি শ্রেণীর লোকেরা যখন বলে “রাস্তা ধরে গেলে পশ্চিম দিকের তৃতীয় বাসাটা”, তখন বড় কষ্ট হত চিনতে। আমার ধারণা ঢাকার অধিকাংশ তরুণ বয়সীদের এই সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, কোন প্রয়জনে না হলেও, শুধু মজার জন্য হলেও চেষ্টা করে দেখেন, একবার উত্তর দক্ষিণ এর মজা পেয়ে গেলে পৃথিবীর কোন জায়গায় চলতে সমস্যা হবে না। এমনকি মানচিত্র পড়াও অনেক সহজ হয়ে যাবে। একবার অভ্যাস হয়ে গেলে শরীরের ভিতর একটা built in কম্পাস তৈরি হয়ে যাবে, যেদিকেই যাই না কেন, দিক ঠিক থাকবে। আর এই দক্ষতা সারা জীবন কঠিন সময়ে কাজে দিবে, বিশেষ করে যখন কোথাও ভ্রমণে যান, কিংবা “Man vs Wild” পরিস্থিতিতে পড়েন।

কম্পাস ব্যতিত দিক নির্ণয় ব্যাপারটা বেশি কঠিন না। কিছু মজার কৌশল আর কিছু common sense. আর এক দিক জানলে বাকি দিকগুলো এমনি বের হয়ে আসে। শুরুতেই কিছু চিরন্তন সত্য-

  1. সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে ও পশ্চিম দিকে অস্ত যায় (সারা জীবন আওড়ায়ে গেলাম, এখনও আওড়ায়ে যাব)।

  2. চন্দ্রও পূর্ব দিকে ওঠে ও পশ্চিম দিকে অস্ত যায় (যখন চন্দ্র থাকে আর কি)।

  3. ধ্রুব তারা উত্তর আকাশে থাকে (তাইতো ইংরেজিতে তাকে North Star বলে)।

  4. চুম্বক বা চৌম্বক জাতীয় পদার্থ মুক্ত ভাবে দুলতে দিলে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর স্থির হয়।


১। সূর্য দেখে – এটা খুব নিখুঁত না হলেও সবচেয়ে দ্রুত এবং সহজ পদ্ধতি। সূর্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে যায়, শীতকালে খানিকটা দক্ষিণে এবং গ্রীষ্মকালে খানিকটা উত্তরে হেলে থাকে (বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী)। এবার common sense ব্যবহার করেন। দুপুর ১২ টায় সূর্যের দিকে তাকালে কোন দিকে হেলে আছে তা দেখলেই দিক বোঝা যায়। নতুবা সূর্যের পথ কিছুক্ষণ খেয়াল করলেই দিক অনুমান করা যায়।

২। দিনের বেলা ছায়া থেকে – এই পদ্ধতিটা আরেকটু নিখুঁত। একটা লাঠি খাড়া সোজা করে মাটিতে পুঁতবেন। ওটার ছায়ার মাথা বরাবর একটা তক্তা গাড়বেন। ছায়া বেশ কিছুটা সরে গেলে আবার ছায়ার মাথা বরাবর আরেকটা তক্তা গাড়বেন। দুইটা তক্তা বরাবর সোজা রেখা টানলে তা পূর্ব-পশ্চিম নির্দেশ করে। যে তক্তা প্রথম গাড়লেন তা সবসময়েই পশ্চিম, কারণ - চিরন্তন সত্য - ১।

৩। Analog ঘড়ি ব্যবহার করে – এটা একটা মজার পদ্ধতি। ১২ টা বাদে দিনের যেকোনো সময়ে Analog ঘড়ির ঘণ্টার কাটা সূর্যের দিকে তাক করেন। এরপর ঘণ্টার কাটা ও ঘড়ির “১২” লেখার মধ্যবর্তী সূক্ষ্মকোণকে দ্বিখণ্ডিত করে একটা রেখা টানলে তা সবসময়ে দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে।

[caption id="attachment_172" align="aligncenter" width="300"]Photo Courtesy: www.wikihow.com Photo Courtesy: www.wikihow.com[/caption]

1. Photo courtesy: www.wikihow.com


৪। চুম্বক বা চৌম্বক পদার্থের সাহায্যে – একটা চুম্বক থাকলে তো কোন কথাই নাই, Jackpot! সুন্দর করে সুতার সাহায্যে চুম্বকটা ঝুলিয়ে দেন। এটা উত্তর দক্ষিণ বরাবর স্থির হবে। নতুবা একটা খুব হালকা চৌম্বক পদার্থকে (সুঁই হতে পারে, কিন্তু দেখে নিতে হবে তাকে চুম্বক আকর্ষণ করে কিনা। অনেক সুঁই আজকাল শঙ্কর ধাতু দিয়ে বানানো হয়, যাকে চুম্বক আকর্ষণ করে না) হালকা ভাসমান পাটাতন (platform) এর উপর রেখে পানিতে ভাসায়ে দিলে (তা যদি মুক্তভাবে নড়তে পারে) সেটা উত্তর-দক্ষিন বরাবর স্থির হবে।

এই পদ্ধতি অত্যন্ত নিখুঁত, কিন্তু উত্তর-দক্ষিন চেনা গেলেও কোন দিক উত্তর বা দক্ষিন তা নির্ণয় করা যায় না। তার জন্য উল্লেখিত অন্য যেকোনো পদ্ধতির সাহায্য নিতে হবে।

৫। তারার সাহায্যে – সপ্তর্ষি মণ্ডল বলে উত্তর আকাশে সাতটি তারার সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখা যায়, যাকে ইংরেজিতে big dipper বলা হয়। এর মাথার দুটি তারাকে যোগ একটি লাইন টানলে তা ধ্রুব তারায় গিয়ে পড়ে।

big_dipper


2. Photo courtesy: www.wikihow.com


৬। মসজিদ, মন্দির, গির্জার সাহায্যে – মসজিদ এর দরজা সবসময়ে পূর্ব দিকে হয়, সেজদার দিক হয় পশ্চিম (বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে)। সাধারণত মন্দির দখিন-দুয়ারি হয়, গির্জা পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা হয়। গির্জার উপরের ক্রস চিহ্ন পশ্চিম দিকে হয়।

এছাড়া ভাই, ঢাকাবাসীদের জন্য বলছি, উত্তরা ঢাকার উত্তর মাথায়, সদরঘাট দক্ষিণে। কাকরাইল থেকে মগবাজার-মহাখালি-বনানি-এয়ারপোর্ট, পুরা রাস্তাটা কম বেশি উত্তর-দক্ষিন বরাবর। এর আনুমানিক সমান্তরাল রাস্তা শাহবাগ থেকে ফার্মগেট হয়ে ক্যনটনমেনট এর ভিতর দিয়ে চলে গেছে। এর বাম পাশে (পশ্চিমে) আজিমপুর, ধানমণ্ডি, মোহাম্মাদপুর, মিরপুর এলাকা; ডানে (পূর্বে) মতিঝিল, হাতিরঝিল, শান্তিনগর, রামপুরা, খিলগাঁও, বাড্ডা এলাকা। দুই রাস্তার মাঝখানে রমনা, তেজগাঁও, নাখালপাড়া এলাকা। দিক বুঝা কি খুব কঠিন?