Showing posts with label ইন্ডিয়া. Show all posts
Showing posts with label ইন্ডিয়া. Show all posts

Sunday, April 6, 2014

কীভাবে অনলাইনে ভারতের ভিসার জন্য আবেদন করবেন- ২য় পর্ব

ভিসার আবেদন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভারতে কারো রেফারেন্স দিতে হবে। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গেলে হোটেলে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর প্রয়োজন হবে। একই সাথে বাংলাদেশেরও একজনের রেফারেন্স দিতে হবে। এরপর ৩য় পৃষ্ঠার কাজ শেষ করে নেক্সট দিলে আপনার দেয়া সকল তথ্য একটি পূরণকৃত ফরমে দেখাবে। একদম নিচে থাকবে দু’টি বোতাম, modify/edit এবং verified and continue। তথ্যগুলো দেখে সংশোধনের প্রয়োজন হলে modify বোতামে চেপে আবার সংশোধণের সুযোগ পাবেন আর সব ঠিক থাকলে verified and continue বোতামে চেপে পরের পৃষ্ঠায় যেতে হবে। এই পৃষ্ঠায় আপনি ভারতে গেলে যেখানে থাকবেন সেখানকার জায়গা/হোটেলের নাম, ঠিকানা, রাজ্যের নাম এবং জেলার নাম দিতে হবে। যেমন- আপনার হোটেল কোলকাতায় হলে হোটেলের নাম, ঠিকানা এবং রাজ্যের নাম হিসেবে West Bengal এবং জেলার নাম হিসেবে দিতে হবে Kolkata. শেষে দিতে হবে ফোন নাম্বার। কয়েকটি হোটেলের নাম, ঠিকানা দেয়ার অপশন থাকলেও একটির বেশি দেয়ার প্রয়োজন নেই। এরপর continue বোতামে চাপলে Date and Time Allotment to Applicant নামে একটি পাতা আসবে। সেখানে আপনার নাম এবং ওয়েব ফাইল নাম্বার বলে একটি নাম্বার দিবে। এই নাম্বারটা অবশ্যই লিখে রাখতে হবে। যদি আপনাকে সময় দেয়া হয় তাহলে পেইজের একদম নিচে ডানদিকে সময় ও তারিখ লেখা থাকবে আর যদি সময় না দেয়া হয় তাহলে লেখা থাকবে No appointment dates are available. এক্ষেত্রে লেখার প্রথমে দেয়া লিংকে গিয়ে পেইজের নিজের দিকের reprint registered application বোতামে ক্লিক করে প্রথমে ক্যাপচা পূরণ করতে হবে। এরপর সাবমিট বোতামে ক্লিক করে পরের পাতায় গিয়ে যে ভারতীয় মিশনে আপনি আবেদন করছেন সেটি নির্বাচন করে, ওয়েব ফাইল নাম্বার, জন্ম তারিখ, পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে আরেকটি ক্যাপচা পূরণ করে reprint বোতামে ক্লিক করলে একটি পিডিএফ ফাইল খুলবে যার ডানদিকে আপনার সাক্ষাতকারের সময় লেখা থাকবে। ফাইলটি কম্পিউটারে সেইভ করে রাখবেন। আর যদি তারিখ না থাকে তাহলে বুঝতে হবে সাক্ষাতকারের জন্য কোনো সময় খালি নেই।

10154333_10203387860994239_760129560_n

সময় খালি পাবেন সে আশা করাও ঠিক নয়। কারণ ওদের সার্ভারে সময় খালি না থাকার বলার জন্যই কমান্ড দেয়া থাকে। দিনের অজানা কোনো সময় অল্প কয়েক মিনিটের জন্য সার্ভার খোলা রাখে যখন আবেদন করলে সময় পাওয়া যায়। কিন্তু এ তথ্য কেউ জানে না। এ কারণে কিছু দালাল রয়েছে যাদের কাজই হলো অর্থের বিনিময়ে আপনাকে ভিসার জন্য ভারতীয় দূতাবাসে সাক্ষাতকারের জন্য আপনাকে তারিখ পাইয়ে দিবে। সেক্ষেত্রে উপরের প্রক্রিয়ায় পুরো আবেদনপত্র পূরণ করে তারিখ না পেলে দালালকে আপনার পাসপোর্ট নাম্বার, জন্ম তারিখ, ওয়েব ফাইল নাম্বার দিয়ে দিলে তারা সারাদিন ধরে চেষ্টা করে তারিখ পাইয়ে দেয়। সেজন্য তারা ৩০০ থেকে শুরু করে ১০০০ বা ১৫০০ টাকা নিয়ে থাকে। অনেকজনের ভিসার কাজ দিলে তারা টাকা কম নেয়। সাধারণত ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যেই নেয় মাথাপিছু। আর নিজে যদি আপনি তারিখ ও সময় পেয়ে যান তাহলে তো কেল্লা ফতে। তারিখ পাওয়ার পর নির্ধারিত দিনে আপনাকে দূতাবাসে যে সকল কাগজপত্রের ফটোকপি ও আসল কপি নিয়ে যেতে হবে তা হলো-
১। সাক্ষাতকারের তারিখ লেখা পিডিএফ ফাইলটির প্রিন্ট করা কপি
২। পাসপোর্ট
৩। ইউটিলিটি বিল
৪। জাতীয় পরিচয়পত্র/ জন্মনিবন্ধন সনদ
৫। ২”/ ২” সিল-ছাপ্পড়, স্বাক্ষর না করা সদ্য তোলা রঙিন ছবি ৪ টি
৬। অফিস/ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া পরিচয়পত্র
৭। প্রতিষ্ঠান থেকে দলগত ভ্রমণ বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গমন হলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত প্রয়োজনীয় সুপারিশের কাগজ

ভিসা প্রক্রিয়ার খরচ ৪০০ টাকা। আর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভারতে যেতে চাইলে নূন্যতম ১৫০ ডলার পাসপোর্টে এনডোর্স করিয়ে নিতে হবে। অনেক সময় তারা বিগত ৩ বা ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্টও চেয়ে থাকে।

Saturday, April 5, 2014

কীভাবে অনলাইনে ভারতের ভিসার জন্য আবেদন করবেন- ১ম পর্ব

বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের ভারত যেতে হতে পারে। চিকিৎসা, ভ্রমণ হলো সাধারণ কিছু কারণ। আর অনেকের তো বিয়ের কেনাকাটা কোলকাতা থেকে করতে না পারলে জীবনই বৃথা। এছাড়া অনেকের আত্মীয়-স্বজন আছে সে দেশে। আমাদের দেশের তিনদিকে ভারত হওয়ায় স্থলপথে নেপাল কিংবা ভুটান যেতে হলেও ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয়। যেকোনো দেশের ভিসা পাওয়ার চেয়ে এখন ভারতের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম কারণ প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে যাওয়ার জন্য আবেদন করে থাকেন। এক সময় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল নিতে হতো। এখন অনলাইনে আবেদন করে সাক্ষাতের তারিখ নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিয়ে ভারতের হাইকমিশনে হাজির হতে হয়। আজকে আলোচনা করবো কীভাবে অনলাইনে ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় তা নিয়ে।

প্রথমেই http://indianvisaonline.gov.in/visa/ এই পেইজে গিয়ে Online Visa Application Registration বাটনে ক্লিক করলেই ফরম চলে আসবে। ফরমের উপরের দিকে Temporary Application ID বলে একটা নাম্বার দেয়া থাকবে। ফরম পূরণের আগেই নাম্বারটি লিখে রাখুন। কেননা ফরমের কিছু অংশ পূরণ করে পরে বাকিটা পূরণ করতে চাইলে ঐ আইডি ব্যবহার করে যতটুকু আগেই করে রেখেছেন তার পর থেকে বাকিটা পূরণ করা যাবে।  বিভিন্ন ঘর পূরণ করতে গিয়ে আমাদেরকে বেশকিছু সংশয়ের মধ্যে পড়তে হয়। সেজন্য খুব মনোযোগ দিয়ে ফরম পূরণ করা জরুরি। প্রথম পৃষ্ঠার সবগুলো আবশ্যিক ঘর পূরণ না করে আপনি পরবর্তী পৃষ্ঠায় যেতে পারবেন না। একদম প্রথম ঘরে আপনি বাংলাদেশে ভারতের কোন মিশন অফিসে থেকে আবেদন করছেন তা নির্বাচন করবেন। ওখানে অপশনের মধ্যে ঢাকা, চিটাগাং এবং রাজশাহী রয়েছে। আপনি আপনার নিকটস্থ মিশন নির্বাচন করবেন। এরপর আপনার নাম, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান (জেলার নাম) এগুলো পূরণ করে citizenship/national id নম্বরের ঘরে যাবেন। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের Personal Identification Number টি দিবেন। অর্থাৎ, পাসপোর্টে ব্যক্তিগত নম্বরের ঘরে যে সংখ্যাটি থাকে সেটিই দিতে হবে। কেননা পাসপোর্টের ঐ সংখ্যাটি আসলে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আর তা না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদ থেকেই নেয়া হয়। Visible Identification Mark এর ঘরে আপনাকে দেখেই খুঁজে পাওয়া যায় এমন কোনো চিহ্নের উল্লেখ করবেন যেমন- মুখের কোনো কাটা দাগ, তিল, জন্মদাগ বা হাত কিংবা পায়ের নিচের দিকের কোনো দাগ যা সহজেই দেখা যায়। এরপর আপনাকে পাসপোর্টে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এখানে মনে রাখতে হবে, আপনার পাসপোর্ট যদি মেশিন রিডেবল হয়, তাহলে আপনি বাংলাদেশের যে অঞ্চল থেকেই পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন না কেন Place of Issue হবে ঢাকা।

Online_Indian_Visa_Form_-_2014-04-05_16.03.4822222

প্রথম পৃষ্ঠা পূরণ শেষে একটি ক্যাপচা পূরণ করে ২য় পৃষ্ঠায় যেতে হবে। সেখানে রয়েছে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা লেখার ঘর। বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা এক হলে বর্তমান ঠিকানা লিখে একটা জায়গায় রয়েছে টিক চিহ্ন দেয়ার সেখানে ক্লিক করলেই স্থায়ী ঠিকানার ঘর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে। এরপর আপনার মা-বাবার নাম ও বিস্তারিত লেখার ঘর আসবে। তারপর একটা অপশনে রয়েছে যে আপনার নানা-নানী, দাদা-দাদী কি পাকিস্তান বা পাকিস্তানের দখলকৃত অঞ্চলের নাগরিক বা সেখানে বাস করতেন কিনা। এখানে No দেয়াই শ্রেয়। এখানে পাকিস্তান বলতে পাকিস্তানই বোঝানো হয়েছে। ৭১ এর আগের পূর্ব পাকিস্তানকে নির্দেশ করা হয় নি। মা-বাবার জন্মস্থান বলতে জন্মের জেলাকে বোঝানো হয়েছে। Occupation Detail of Applicant অংশে আপনার পেশার বিস্তারিত দিতে হবে। তবে আপনি ছাত্র হলে যখন Student নির্বাচন করবেন তখন আরেকটি অপশন আসবে আপনার বাবা অথবা স্বামী/স্ত্রী’র পেশার বিস্তারিত দেয়ার জন্য বলা হবে। বাবা মৃত হলে এবং আপনি অবিবাহিত হলে বাবার শেষ পেশা, চাকরি/ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা দিতে হবে। আর Designation অংশে Retired লিখে এরপর পদের নাম লিখতে হবে। বাবা অবসরে থাকলেও একই কথা প্রযোজ্য। তৃতীয় পৃষ্ঠায় আপনার ভিসার ধরণ, ভিসার মেয়াদ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য সংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করতে হবে। কোন পথে ভারতে প্রবেশ করবেন এবং কোন পথে বের হবেন তাও আপনাকে নির্বাচন করে দিতে হবে। আকাশপথ হলে by air দিতে হবে। যেমন- বেনাপোল দিয়ে যদি আপনি বাংলাদেশ থেকে বের হন তাহলে port of entry দিতে হবে By road Haridaspur. ওদিক দিয়ে বের হলেও একই। আর বুড়িমারী দিয়ে বাংলাদেশ দিয়ে বের হলে দিতে হবে by road Changrabandha.     (চলবে)